রোহিঙ্গা সংকট ২০ বছরে গড়াতে দেওয়া যাবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৩-০৮-২০২৬ ০৫:২২:৫৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৩-০৮-২০২৬ ০৫:২২:৫৮ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকট দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের ১০ বছরকে কোনোভাবেই ২০ বছরে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকটের এক দশক: মানবিক প্রতিক্রিয়া থেকে টেকসই সমাধান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিকাব) ও অক্সফাম যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১০ বছর একটি সরকারের কাছে কেবল নীতিগত চক্র হতে পারে, কিন্তু শরণার্থী শিবিরে বড় হওয়া একটি শিশুর কাছে এটি তার পুরো শৈশব। একজন তরুণের কাছে এটি হারিয়ে যাওয়া শিক্ষা আর একটি পরিবারের কাছে ঘরছাড়া জীবনের এক দশক। আমরা কিছুতেই এই দীর্ঘসূত্রতা মেনে নিতে পারি না।’
শামা ওবায়েদ ইসলাম উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালে মানবিক কারণে বাংলাদেশ ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছিল। খাদ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ নৈতিক দায়িত্ব পালন করেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘বাংলাদেশ এই সংকটের সৃষ্টি করেনি, তাই এর চূড়ান্ত সমাধানও এ দেশে নেই। এই সংকটের শেকড় মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারকেই করতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের একমাত্র লক্ষ্য রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এটি কেবল কূটনৈতিক পথ নয়, বরং সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান। তিনি দ্রুত যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন এবং বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুদেরও এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ২০২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনায় (জেআরপি) অর্থায়ন কমলেও রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন কমেনি। একই সঙ্গে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর পড়া অতিরিক্ত চাপের কথা উল্লেখ করে তাদের জন্যও আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
সেমিনারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারের নাগরিক, এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। কোনো ধরনের ভুল তথ্য যেন এই সত্যকে আড়াল করতে না পারে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচকে/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স